Header Ads Widget

Call For Ads 01711278332

চরমোনাই পীরের কিতাবে নিজ ক্ষমতায় মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করার শিরকি ঘটনা

 চরমোনাই পীর তার ভেদে মারেফত বা ইয়াদে খোদা নামক কিতাবে একটি শিরকি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। ঘটনাটিতে দেখা যায় যে, একজন আল্লাহর ওলী আল্লাহ তায়ালার অনুমতি ছাড়া নিজ ক্ষমতায় ও নিজ হুকুমে এক মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করেছে এবং আল্লাহ তায়ালার দরবার থেকে উক্ত ব্যক্তির রূহকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে এসেছে। এমনকি সে আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে মন্তব্য করেছে যে, তাঁহার আন্দাজ নাই। উক্ত ঘটনাটি সংক্ষিপ্ত আকারে নিচে উল্লেখ করা হলঃ

.
হযরত শামসুত তাবরীজি (রঃ) একদা রোম শহরের দিকে রওয়ানা হইলেন। পথিমধ্যে জনৈক অন্ধ বৃদ্ধকে একটি লাশ সম্মুখে নিয়া কাঁদিতে দেখিলেন। কারণ জিজ্ঞেস করিলে বৃদ্ধ বলিল, আমার কেউ নেই। ১২ বছর বয়স্ক এটি আমার নাতি, গাভী পালিয়া আমাকে দুগ্ধ খাওয়াইত এবং আমার খেদমত করিত। এখন আমার কোন উপায় নাই। তাই কাঁদিতেছি। তখন হুজুর (তাবরীজি) বলিলেন, হে ছেলে তুমি আমার হুকুমে দাঁড়াও। তখনই ছেলেটি উঠিয়া দাঁড়াইল। তাহাকে জিজ্ঞাসা করা হইল, কিরূপে জীবিত হইলে? নাতি বলিল, আল্লাহর ওলী আমাকে জেন্দা করিয়াছেন।

.

এ খবর খাঁটি মুসলমান বাদশার কাছে পৌঁছিলে তিনি কুতুবকে (তাবরীজিকে) ডাকিয়া বলিলেন, যদি আল্লাহর আদেশে জেন্দা হইতে বলিতেন। কুতুব সাহেব উত্তর করিলেন, মাবুদের কাছে আবার কি জিজ্ঞাসা করিব? তাঁহার আন্দাজ নাই। এই বৃদ্ধের একটি মাত্র পুত্র ছিল তাহাও নিয়াছে। বাকি ছিল এই নাতিটি, যে গাভী পালন করিয়া কোনরূপে জিন্দেগি গুজরান করিত, এখন এটিও নিয়া গেল। তাই আমি আল্লাহ পাকের দরবার থেকে জোরপূর্বক রূহ নিয়া আসিয়াছি।
.
বাদশাহ তাবরীজি সাহেবকে বলিলেন, আপনি শরীয়ত মানেন কিনা? তিনি বলিলেন, নিশ্চয়ই শরীয়ত না মানিলে ভীষণ কিয়ামতের দিন হুজুর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের শাফায়াত পাওয়া যাইবে না। বাদশা বলিলেন, আপনি শেরেক করিয়াছেন। সেই অপরাধে আপনার শরীরের সমস্ত চামড়া খসাইয়া ফেলিতে হইবে। আল্লাহর কুতুব কথা শুনা মাত্র দুই হাতের আঙ্গুলি দ্বারা পায়ের নীচ থেকে আরম্ভ করিয়া গায়ের সমস্ত চামড়া খসাইয়া বাদশাহর সম্মুখে ফেলিয়া জঙ্গলে চলিয়া গেলেন। জঙ্গলে বসিয়া আল্লাহর জেকেরে মশগুল হইয়া গেলেন। ভোর বেলা সূর্যের তাপ চর্মহীন শরীরে লাগা মাত্র কষ্ট পাইলেন এবং সূর্যকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, হে সূর্য আমি শরীয়ত মানিয়াছি। কাজেই তুমি আমাকে কষ্ট দিও না। ইহা বলা মাত্র ঐ দেশের জন্য সূর্য অন্ধকার হইয়া গেল। দেশের ভিতর একটা সোরগোল পড়িয়া গেল।

.

বাদশাহ অস্থির হইয়া ঐ হুজুরকে তালাশ করিতে লাগিলেন। বহু চেষ্টার পর এক জঙ্গলে গিয়া তাহার সাক্ষাৎ পাইলেন এবং আরজ করিলেন, হুজুর শরীয়ত জারী করিতে গিয়া আমরা কি অন্যায় করিলাম যাহার জন্য আমাদের এই মুসীবত আনিয়া দিয়াছেন? হুজুর তখন সূর্যকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, হে সূর্য তোমাকে বলিয়াছি আমাকে কষ্ট দিও না, কিন্তু দেশবাসীকে কষ্ট দেও কেন? ইহা বলা মাত্র সূর্য আলোকিত হইয়া গেল। আল্লাহ পাক তাহার ওলীর শরীর ভাল করিয়া দিলেন।
.
চরমোনাই পীর উক্ত ঘটনা উল্লেখ করে টিকায় লিখেছে যে, এ ধরনের কথা বলা আমাদের মত সাধারণ লোকদের জন্য পরিস্কার কুফুরি বলিয়া গণ্য হইবে। কিন্তু আল্লাহ পাকের দেওয়ানা বান্দাগণ এশকের চরম হালতে অন্তরের ভারসাম্য হারাইয়া এক প্রকার বেহুশ অবস্থায় কদাচিৎ এরূপ বলিয়া ফেলেন। আল্লাহ পাকের আশেকদের এ ধরনের উক্তি এশকের জোশ বশতঃ ঘটিয়া যায়। তাই আল্লাহ পাকের নিকট তাহা অপরাধ বলিয়া গণ্য হয় না। যেরূপ শিশু যদি পিতার মুখে থাপ্পড় মারে কিংবা দাড়ি ছিড়িয়া ফেলে, পিতার নিকট তাহা পীড়াদায়ক হয় না বরং তাহাতে আরো মহব্বতের জোয়ার উঠে। [ভেদে মারেফত বা ইয়াদে খোদা, পৃষ্ঠা ১৫-১৭]
.
সনদ ও দলিল প্রমাণ বিহীন এ ধরণের মিথ্যা, উদ্ভট, কল্পনা প্রসূত ও বিবেক বর্জিত ঘটনা উল্লেখ করে সরলমনা মানুষের ঈমান লুট করার উদ্দেশ্য কি তা সহজেই অনুমান করা যায়। আর তা হচ্ছে সুমহান আল্লাহকে বাদ দিয়ে পীরদের ছায়াতলে আশ্রয় নেয়ার জন্যে মানুষকে আহ্বান জানানো। তাবরীজির ঘটনার মাধ্যমে চরমোনাই পীর এটিই প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে যে, মারেফতের পীররা মৃতকে জীবিত করার ক্ষমতা রাখেন। এ ক্ষেত্রে তারা আল্লাহর অনুমতির তোয়াক্কা করেন না। তারা আল্লাহর নিকট থেকে জোরপূর্বক আত্মাকে ছিনিয়ে আনেন। নাউযুবিল্লাহ।
.
অথচ মানুষকে জীবন দেওয়া ও মৃত্যু দেওয়া একমাত্র আল্লাহরই কাজ। তিনিই জীবন মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন। এ কাজে তিনি কাউকে অংশীদার করেন নি। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন, কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল। [সূরা মূলক, আয়াত ২]
.
নবী-রাসূলদের মুজিযা স্বরূপ কতিপয় ঘটনা পাওয়া যায়, যাতে তাঁদের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তি জীবিত হয়েছে। কিন্তু ঐ নবী-রাসূলগণ আল্লাহর এত প্রিয়পাত্র হওয়া সত্ত্বেও কখনো তারা এরূপ বলেন নি যে, তুমি আমার হুকুমে জিন্দা হও। অথবা তারা কখনো আল্লাহর নিকট থেকে রূহ ছিনিয়ে নিয়ে আসার স্পর্ধা দেখান নি। কেননা তাঁরা সবাই আল্লাহর নির্দেশে চলতেন।

.

তাবরীজি সাহেব এবং তার দলের মারেফত পন্থীরা যদি সত্যিকার অর্থে তাওহীদপন্থী হত তাহলে মানুষ বিপদে পড়লে তাদেরকে সবরের উপদেশ দিত। তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করত। কখনো আল্লাহর সাথে বেয়াদবি মূলক আচরণ করত না বা তাদের অনুসারীরা ঐ অসৌজন্যমূলক কুফরী কথাকে বৈধ করার জন্যে অপব্যাখ্যা করত না। কেননা “আল্লাহর আন্দাজ নাই” এরূপ কথা কোন বেয়াদব কাফির মুশরিক ছাড়া আর কেউ বলতে পারে না। অতএব মারেফতের নাম করে তাদের আল্লাহ প্রেমের দাবী ও নবী প্রেমের মহড়া যে নিছক ভন্ডামী ও মানুষকে ধোকা দিয়ে স্বার্থসিদ্ধি করার উদ্দেশ্যে তা আর ব্যাখ্যা করে বলতে হবে না। তাবরীজি কোন মানুষকে জীবিত করেছে এরূপ বিশ্বাস করা তাওহীদ বিরোধী সুস্পষ্ট কুফরী এবং শিরক।
.
চরমোনাই পীর এটিও প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে যে, মারেফতের পীরগণ বাহ্যিকভাবে ইসলামি শরীয়তের বিধি-বিধান মানতে বাধ্য নন। এমনকি আল্লাহর শানে বেয়াদবি মূলক কথা মুখে উচ্চারণ করলেও মারেফতের পীরদের কোন অপরাধ নেই। চরমোনাই পীর ঘটনায় উল্লেখিত তাবরিজী সাহেবের আল্লাহর শানে বেয়াদবি মূলক আচরণের অযুহাত দেখাতে গিয়ে পিতার সাথে নিস্পাপ শিশুর বেয়াদবির উদাহরণ দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন তাবরীজি সাহেব কি ঐ শিশুর মত অনুভূতিহীন, অবুঝ ও হুঁশহারা যে, আল্লাহর শানে তার বেয়াদবি মূলক আচরণ অপরাধ বলে গণ্য হবে না?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Call For Ads 01711278332